ডিজিটাল সাইনেজ কী? সহজ বাংলায় বুঝে নিন

ডিজিটাল সাইনেজ আসলে কী, চালাতে কী লাগে, চালু রাখতে খরচ কত, আর আপনার দোকান, ক্যাফে বা অফিসে এটা কাজে দেবে কি না, তা কীভাবে বুঝবেন।

পড়তে 4 মিনিট

কোনো ক্যাফেতে দাঁড়িয়ে কখনো দেখেছেন, কাউন্টারের পেছনের মেনুটা নিজে থেকেই সকালের নাস্তা থেকে দুপুরের খাবারে বদলে গেল? তাহলে আপনি ডিজিটাল সাইনেজ দেখেছেন। ভারী ভারী শব্দগুলো বাদ দিলে ব্যাপারটা শুধু এই: একটা স্ক্রিন, যাতে আপনার নিজের কনটেন্ট দেখায়, আর সেটা আপনি বদলান কম্পিউটার থেকে, নতুন কিছু ছাপিয়ে দেয়ালে সেঁটে দেওয়ার বদলে।

সত্যিই, এর বেশি কিছু নয়। এই গাইডের বাকিটায় থাকছে এটা চালাতে কী কী লাগে, চালু রাখতে খরচ কত, আর আপনার ব্যবসার জন্য এটা করা ঠিক হবে কি না, তা কীভাবে বুঝবেন।

যেকোনো সেটআপে এই তিনটি জিনিস থাকে

ছোট হোক বা বড়, প্রতিটি ডিজিটাল সাইনেজ সেটআপ একই তিনটি জিনিস দিয়ে তৈরি।

একটা স্ক্রিন। যেকোনো টিভি বা ডিসপ্লে হলেই চলবে। কমার্শিয়াল ডিসপ্লে লম্বা সময় ধরে চালানোর জন্যই তৈরি, তবে শুরু করার জন্য সাধারণ একটা টিভিই যথেষ্ট, আর হয়তো আপনার দেয়ালে সেটা আগে থেকেই ঝুলছে।

কনটেন্ট চালানোর মতো কিছু একটা। কিছু টিভি নিজেরাই অ্যাপ চালাতে পারে। বাকিগুলোর একটু সাহায্য লাগে: HDMI পোর্টে লাগানো একটা Android বক্স বা স্টিক, অথবা ওয়েব ব্রাউজার আছে এমন যেকোনো কম্পিউটার। VizzBox-এর ক্ষেত্রে Android 7 বা তার পরের সংস্করণের যেকোনো Android ডিভাইস চলবে, আর vizzbox.com/screen খোলা একটা আধুনিক ওয়েব ব্রাউজারও চলবে।

সব সামলানোর সফটওয়্যার। এই জিনিসটার কথাই লোকে ভুলে যায়। সফটওয়্যারে আপনি ছবি আর ভিডিও আপলোড করেন, স্ক্রিনে সেগুলো সাজান, আর ঠিক করেন কোথায়, কখন কী চলবে। এর জোরেই প্রতিটি স্ক্রিনের কাছে হেঁটে না গিয়ে সবগুলো একসঙ্গে বদলে দিতে পারেন।

লোকে আসলে স্ক্রিনে কী দেখায়

  • মেনু আর দাম, কাউন্টারের পেছনে বা শো-উইন্ডোতে
  • অফার আর নতুন পণ্য, বিশেষ করে যেগুলো নির্দিষ্ট কিছুদিনের জন্য চলে
  • হোটেলের লবিতে স্বাগত বার্তা, কোথায় কী আছে তার দিকনির্দেশ আর দিনের অনুষ্ঠান
  • অপেক্ষার ঘরে খোলার সময়, স্বাস্থ্য টিপস আর নোটিশ
  • অফিস আর কারখানায় ড্যাশবোর্ড, নিরাপত্তার নোটিশ আর ঘোষণা
  • স্কুলে পরীক্ষার কাউন্টডাউন আর অনুষ্ঠানের নোটিশ
  • কোনো গোলমাল হলে একসঙ্গে প্রতিটি স্ক্রিনে একটা জরুরি বার্তা

একটা সহজ হিসাব মনে রাখুন: যা কখনো ছাপিয়ে দেয়ালে সেঁটেছেন, সেটার জায়গা সম্ভবত স্ক্রিনেই।

শুধু টিভিতে একটা ভিডিও চালানোর চেয়ে এটা আলাদা কেন

টিভিতে একটা ভিডিও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চালানো একটা শুরু মাত্র। সাইনেজের আসল লাভটা বোঝা যায় প্রথম সপ্তাহ পেরোনোর পর।

এটা সময়সূচি মেনে বদলায়। এগারোটা পর্যন্ত নাস্তার মেনু, তারপর দুপুরের খাবার। সপ্তাহান্তের অফার শুক্রবার স্ক্রিনে ওঠে, আর রবিবার রাতে নিজেই নেমে যায়, কাউকে মনে করে সরাতে হয় না।

বদলান এক জায়গা থেকেই। একবার দাম ঠিক করে দিন, যেসব স্ক্রিনে সেটা দেখায়, সবগুলো আপডেট হয়ে যাবে। VizzBox-এর স্ক্রিনগুলো প্রতি মিনিটে পরিবর্তন খুঁজে দেখে, তাই কোনো বদল সাধারণত মিনিটখানেকের মধ্যেই দেয়ালে চলে আসে।

স্ক্রিন ভাগ করে নিতে পারেন। এক পাশে মেনু, অন্য পাশে আজকের অফার, আর নিচ বরাবর খবরের একটা লাইন, প্রতিটি বদলায় নিজের তালে।

জানতে পারেন সব ঠিকঠাক চলছে কি না। নিজের টেবিলে বসেই দেখে নিতে পারেন কোন স্ক্রিন অনলাইন আর কোনটায় কী দেখাচ্ছে। কোনো গ্রাহকের মুখে শুনতে হয় না যে মঙ্গলবার থেকে মেনু বোর্ডটা কালো হয়ে পড়ে আছে।

চালাতে খরচ কত

সত্যি বলতে, সেটা নির্ভর করে আপনার কতগুলো স্ক্রিন আর আগে থেকে কী কী আছে, তার ওপর। খরচটা চার ভাগে:

  1. স্ক্রিন। হয়তো আগে থেকেই আছে।
  2. প্লেয়ার। আপনার টিভিতে Android 7 বা তার পরের সংস্করণ থাকলে, কিংবা মোটামুটি ভালো একটা ওয়েব ব্রাউজার থাকলে, বাড়তি কিছু লাগবে না। না হলে একটা ছোট Android বক্স বা পড়ে থাকা একটা বাড়তি কম্পিউটার।
  3. সফটওয়্যার। সাধারণত প্রতি স্ক্রিনে মাসিক একটা ফি। VizzBox-এ Starter প্ল্যানে একটা স্ক্রিন চলে, Business-এ তিনটি, আর এর বেশি প্রতিটি স্ক্রিনের জন্য নির্দিষ্ট দাম; বছরে একবারে দিলে খরচ পড়ে দশ মাসের সমান। আপনার মুদ্রায় আজকের দাম দেখে নিন আমাদের দামের বিভাগে
  4. আপনার সময়। এটাকেই সবাই সবচেয়ে কম ধরে। ভালো সফটওয়্যারে সপ্তাহে কয়েক মিনিট লাগার কথা, গোটা একটা বিকেল নয়।

আপনার জন্য কি এটা কাজের?

সম্ভবত কাজে দেবে, যদি:

  • দেয়ালে যা লাগানো থাকে, তা মাসে একবারের বেশি বদলান
  • একটার বেশি শাখা, বা একটার বেশি স্ক্রিন থাকে
  • দিনের একেক সময়ে একেক জিনিস দেখাতে চান
  • ছাপানোর পেছনে ভালোই টাকা খরচ হয়

আর যদি একটামাত্র স্ক্রিনে মাসের পর মাস একই ভিডিও চলে, তাহলে সম্ভবত এখনই এর দরকার নেই। সেই কাজে USB স্টিকই যথেষ্ট; আর স্টিক কখন আর যথেষ্ট থাকে না, তা নিয়ে আমরা একটা খোলাখুলি তুলনা লিখেছি।

এক টাকাও খরচ না করে কীভাবে চালিয়ে দেখবেন

শুরু করুন আপনার এখনকার টিভি দিয়েই। একটা VizzBox অ্যাকাউন্ট খুলুন (ট্রায়াল ১৫ দিনের, তিনটি পর্যন্ত স্ক্রিনে, আর কার্ডের তথ্য দিতে হয় না), টিভির ব্রাউজারে বা টিভির সঙ্গে লাগানো ল্যাপটপে vizzbox.com/screen খুলুন, পোর্টাল যে কোড দেবে সেটা দিয়ে স্ক্রিনটা যুক্ত করুন, আর একটা ছবি তুলে দিন। প্রতিটি ধাপ ধরে ধরে বোঝানো আছে আমাদের যেকোনো টিভিকে ডিজিটাল সাইনবোর্ড বানানোর গাইডে

এতে যদি আপনার সপ্তাহটা একটুও সহজ না হয়, আপনার কিছুই হারানোর নেই। ট্রায়াল শেষ হলে আপনি প্ল্যান বেছে না নেওয়া পর্যন্ত স্ক্রিনগুলো থেমে থাকে, আর আপনার আপলোড করা কিছুই মুছে যায় না।

আগে একটা চালু স্ক্রিন দেখে নিতে চান? আমাদের লাইভ ডেমো হলো আমাদের বানানো কাল্পনিক ডেমো ক্যাফের একটা আসল স্ক্রিন, যা এই মুহূর্তে আপনার ব্রাউজারেই চলছে।

একটি আসল স্ক্রিনে দেখে নিন

আমাদের ডেমো ক্যাফের স্ক্রিনে এই মুহূর্তে কী চলছে দেখুন, অথবা 3টি পর্যন্ত স্ক্রিনে 15 দিন বিনামূল্যে VizzBox ব্যবহার করে দেখুন। কার্ড লাগবে না।

আরও গাইড

পড়তে 4 মিনিট

ক্যাফের জন্য ডিজিটাল মেনু বোর্ড: হাতে-কলমে সেটআপ গাইড

গাইডটি পড়ুন