USB স্টিক, নাকি ডিজিটাল সাইনেজ সফটওয়্যার? একটা খোলাখুলি তুলনা
USB স্টিক থেকে স্লাইডশো চালাতে খরচ নেই, কিছু স্ক্রিনে তা ঠিকই আছে। কখন সেটা যথেষ্ট, কখন সময় নষ্ট শুরু হয়, আর সাইনেজ সফটওয়্যারে কী বদলায়।
প্রায় সব টিভিতেই USB পোর্ট আছে, আর স্টিক থেকে ছবি-ভিডিও দিব্যি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চালায়। তাহলে সফটওয়্যারের পেছনে টাকা খরচ করবেন কেন? কখনো কখনো করা উচিতও নয়। চলুন খোলাখুলি দেখি, কোথায় স্টিকই একদম ঠিক, আর কোথায় সেটা চুপচাপ আপনার খরচ বাড়াতে শুরু করে।
কখন একটা USB স্টিকই যথেষ্ট
নিচের সবকটা কথা যদি খাটে, তাহলে স্টিকটাই রাখুন:
- আপনার স্ক্রিন একটা, বা দু-একটা
- স্ক্রিনে যা চলে, তা কালেভদ্রে বদলায়: ধরুন শোরুমে একটা ব্র্যান্ড ভিডিও, যা মাসের পর মাস চলে
- স্ক্রিনের কাছে সহজেই পৌঁছানো যায়, আর আপডেট করতে কারও আপত্তি নেই
- দিনের একেক সময়ে একেক জিনিস দেখানোর দরকার নেই
আপনার অবস্থা যদি এমনই হয়, তাহলে স্টিকই ঠিক উত্তর। সত্যি বলছি।
কোথায় গিয়ে ঝামেলা শুরু হয়
ঝামেলা শুরু হয় যখন ঘনঘন কিছু বদলাতে হয়, বা যখন স্ক্রিন একটার বেশি।
প্রতিটি বদল মানেই একবার ছুটে যাওয়া। নতুন একটা দাম মানে ফাইল এক্সপোর্ট করা, স্টিকে কপি করা, হেঁটে টিভির কাছে যাওয়া, স্টিক বদলানো, তারপর ঠিকঠাক চলছে কি না দেখা। দুটো শাখা হলে দুবার যাওয়া। দশটা স্ক্রিন হলে গোটা একটা বিকেল।
স্টিক জানে না এখন কটা বাজে। সকাল ৮টায় আর রাত ৮টায় স্টিক একই লুপ চালায়, তাই রাতের খাবারের সময়েও নাস্তার অফার ঝুলতে থাকে।
যেখানে বসে আছেন, সেখান থেকে দেখতে পান না। অন্য শাখায় কি এখনও গত মাসের অফার চলছে? কেউ গিয়ে না দেখা পর্যন্ত, বা কোনো গ্রাহক না বলা পর্যন্ত আপনি জানতেই পারবেন না।
পুরোনো জিনিস থেকেই যায়। রবিবার যে অফার শেষ হয়ে গেছে, কেউ মনে করে না সরানো পর্যন্ত সেটা স্ক্রিনে থেকে যায়।
টিভিগুলো খুঁতখুঁতে। কিছু টিভি USB থেকে শুধু নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ফাইলই চালায়, আর কিছু টিভি লোডশেডিংয়ের পরে নিজে থেকে স্লাইডশো আবার শুরু করে না।
সাইনেজ সফটওয়্যারে কী বদলায়
| USB স্টিক | VizzBox-এর মতো সাইনেজ সফটওয়্যার | |
|---|---|---|
| স্ক্রিনে যা দেখায়, তা বদলানো | ফাইল কপি করে প্রতিটি স্ক্রিনের কাছে যাওয়া | নিজের টেবিলে বসে একবার বদলান; এক মিনিটের মধ্যে স্ক্রিনগুলো তা নিয়ে নেয় |
| সময় বা দিন অনুযায়ী আলাদা কনটেন্ট | না | তারিখ, সপ্তাহের বার আর দিনের সময় ধরে সময়সূচি |
| একাধিক শাখা | প্রতিটি স্ক্রিনের জন্য একবার করে যাওয়া | স্ক্রিনগুলো গ্রুপ করে সবগুলো একসঙ্গে আপডেট করুন |
| ঠিকমতো চলছে কি না জানা | গিয়ে দেখতে হয় | নিজের টেবিল থেকেই দেখুন কোন স্ক্রিন অনলাইন আর কোনটায় কী চলছে |
| লোডশেডিংয়ের পরে | টিভির ওপর নির্ভর করে | Android প্লেয়ার নিজে থেকে চালু হয়ে আবার চলতে থাকে |
| ইন্টারনেট | লাগে না | পরিবর্তন পেতে লাগে; অফলাইনে যা জমা আছে তা-ই চালায় |
| বিন্যাস | পুরো পর্দায় একটাই লুপ | কয়েকটা অংশে ভাগ: মেনু, অফার, টিকার, ঘড়ি, আবহাওয়া |
| খরচ | একটা স্টিকের দাম | বিনামূল্যের ট্রায়ালের পরে, প্রতি স্ক্রিনে মাসিক ফি |
মাঝামাঝি একটা রাস্তা
সবকিছু একসঙ্গে সরাতে হবে, এমন নয়। বেশিরভাগ মানুষ শুরু করেন সেই একটা স্ক্রিন দিয়ে, যার কনটেন্ট সবচেয়ে বেশি বদলায়, সাধারণত মেনু বোর্ড বা শো-উইন্ডোর অফার, আর শোরুমের ভিডিওটা স্টিকেই থাকতে দেন। ওই একটা স্ক্রিনে সফটওয়্যার যদি নিজের দাম উসুল করে, পরে বাকিগুলোও সরিয়ে আনুন। না করলে, আপনার কিছুই হারানোর নেই।
নিজেকে চারটে প্রশ্ন করুন
- আমার স্ক্রিনে যা চলে, তা কত ঘনঘন বদলাই? মোটামুটি মাসে একবারের বেশি হলে পাল্লা সফটওয়্যারের দিকে ভারী।
- স্ক্রিন কতগুলো, আর সেগুলো কতগুলো জায়গায়?
- কোনো কিছু কি দিনের সময়ের ওপর নির্ভর করে, যেমন মেনু, খোলার সময় বা অফার?
- আজ বিকেলে আমার কোনো স্ক্রিন ফাঁকা হয়ে গেলে, আমি কি জানতে পারব?
আপনার উত্তর যদি হয় "ঘনঘন", "একটার বেশি", "হ্যাঁ" আর "না", তাহলে স্টিকের পেছনে সম্ভবত যতটা মনে হয়, তার চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে।
একটা স্ক্রিনে চালিয়ে দেখুন
VizzBox-এ তিনটি পর্যন্ত স্ক্রিনে ১৫ দিনের ট্রায়াল আছে, কার্ডের তথ্য দিতে হয় না। আপনার এখনকার টিভিটাই ব্যবহার করতে পারেন; কীভাবে, তা দেখানো আছে আমাদের যেকোনো টিভিকে ডিজিটাল সাইনবোর্ড বানানোর গাইডে। অথবা আগে একটা তৈরি স্ক্রিন দেখে নিন: লাইভ ডেমো হলো আমাদের ডেমো ক্যাফের একটা আসল স্ক্রিন, এই মুহূর্তে চলছে।