ক্যাফের জন্য ডিজিটাল মেনু বোর্ড: হাতে-কলমে সেটআপ গাইড
ধাপে ধাপে দেখে নিন এমন মেনু বোর্ড কীভাবে চালাবেন, যা নিজেই নাস্তা থেকে দুপুরের মেনুতে বদলায়, দাম নেয় Google Sheet থেকে, আর কখনো আবার ছাপাতে হয় না।
ছাপানো মেনুর দুটো সমস্যা। যেদিন ছাপান, সেদিন থেকেই সেটা পুরোনো হতে শুরু করে, আর সকাল ৮টায় যা বলে, রাত ৮টাতেও ঠিক তাই বলে। একটা স্ক্রিন দুটো সমস্যাই মিটিয়ে দেয়, তবে শর্ত একটাই: আবার ছাপানোর চেয়ে স্ক্রিন আপডেট করা সহজ হতে হবে। কীভাবে সেট করলে সত্যিই সহজ হয়, সেটাই নিচে দেখুন।
আগে ঠিক করুন কোন স্ক্রিন কীসের জন্য
ডিজাইনের কথা ভাবার আগে ভাবুন, লোকে কোথায় তাকায়। ক্যাফেতে সাধারণত এরকম সাজানো হয়:
- কাউন্টারের পেছনে: পুরো মেনু আর দামসহ একটা চওড়া (আড়াআড়ি) স্ক্রিন
- শো-উইন্ডোতে: আজকের অফারসহ একটা লম্বা (খাড়া) স্ক্রিন, যাতে লোকে ভেতরে আসে
- ক্যাশের কাছে: একটা ছোট স্ক্রিন, তাতে একটা QR কোড, নিয়মিত গ্রাহকদের জন্য অফার, বা নতুন কী এল
তিনটেই লাগবে, এমন নয়। শুরু করুন কাউন্টারের পেছনেরটা দিয়ে; লাইনে দাঁড়িয়ে লোকে এটাই পড়ে।
উপায় ক: দামগুলো একটা Google Sheet-এ রাখুন
দাম যদি ঘনঘন বদলায়, বা আপনার একাধিক শাখা থাকে, তাহলে এটাই সবচেয়ে ভালো। VizzBox-এর মেনু বোর্ড উইজেট একটা Google Sheet পড়ে, আর সেটা স্ক্রিনে সুন্দর করে সাজিয়ে দেখায়। শিটে একটা দাম বদলান, এক মিনিটের মধ্যেই স্ক্রিনগুলোও বদলে যাবে। ডিজাইনের ফাইলে কাউকে হাতই দিতে হয় না।
- পাঁচটা কলাম দিয়ে একটা শিট বানান: section, item, description, price আর badge। কলামের নামগুলো ঠিক এভাবেই ইংরেজিতে লিখবেন, কারণ স্ক্রিন এই নামগুলো দেখেই কলাম চেনে। badge কলামটা না ভরলেও চলে; এটা "নতুন" বা "ঝাল"-এর মতো ছোট একটা লেবেলের জন্য।
- Google Sheets-এ File → Share → Publish to web বেছে নিন, শিটটা বাছুন, Comma-separated values (.csv) বেছে নিন, তারপর প্রকাশ করে লিংকটা কপি করুন।
- VizzBox-এ আপনার ডিজাইনের একটা অংশে মেনু বোর্ড উইজেট যোগ করে লিংকটা পেস্ট করুন। একটা শিরোনাম দিন, এক কলাম না দুই কলাম তা বেছে নিন (লম্বা অংশে দুই কলাম ভালো মানায়), আর মুদ্রার চিহ্ন বসিয়ে দিন; যে দাম শুধুই একটা সংখ্যা, তার আগে এই চিহ্নটা বসে যায়।
আপনার শিটের শুরুটা এরকম হতে পারে (দামগুলো শুধুই উদাহরণ):
| section | item | description | price | badge |
|---|---|---|---|---|
| গরম পানীয় | মশলা চা | আদা আর এলাচ দিয়ে ফোটানো | 60 | |
| গরম পানীয় | ফিল্টার কফি | কড়া, সঙ্গে একটু চিকোরি | 80 | নতুন |
| সকালের নাস্তা | পোহা | চিনাবাদাম আর একটু লেবুর রস দিয়ে | 90 |
উপায় খ: যে মেনু আগে থেকেই আছে, সেটাই আপলোড করুন
কোনো ডিজাইনার যদি আগেই আপনার মেনু PDF হিসেবে বানিয়ে দিয়ে থাকেন, সেটা যেমন আছে তেমনই আপলোড করুন। প্রতিটি পাতা স্ক্রিনে আলাদা একটা স্লাইড হয়ে যাবে। ছবিও একইভাবে চলে: JPEG, PNG, WebP, GIF বা SVG।
শুরু করার সবচেয়ে তাড়াতাড়ি উপায় এটাই। মুশকিল হলো, একটা দাম বদলাতে হলে ফাইলটা এডিট করে আবার এক্সপোর্ট করতে হয়। তাই যদি কয়েক সপ্তাহ পরপরই দাম বদলান, উপায় ক আপনার সময় বাঁচাবে।
অথবা ক্যাফের তৈরি ডিজাইন দিয়ে শুরু করুন
VizzBox-এর সঙ্গেই আছে ক্যাফের মেনু বোর্ডের একটা ডিজাইন, যা এখনই চালানো যায়। তাতে নিজের ছবি, ক্যাফের নাম আর আপনার আইটেমগুলো বসিয়ে দিন, ফাঁকা স্ক্রিন থেকে শুরু না করেই একটা তৈরি বোর্ড পেয়ে যাবেন।
দিনের সময় অনুযায়ী মেনু বদলে দিন
ছাপানো মেনু এই কাজটা পারে না। দিনের প্রতিটি ভাগের জন্য একটা করে ডিজাইন বানান (ধরুন, সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার আর সন্ধ্যা), তারপর প্রতিটি ডিজাইন কোন কোন দিনে, কোন সময়ে চলবে, তা দিয়ে স্ক্রিনের সময়সূচিতে বসিয়ে দিন। যেমন প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ১১টা নাস্তা, সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে ১১টা থেকে ৪টা দুপুরের খাবার, এভাবে। এই সময়গুলোর বাইরে স্ক্রিন তার রোজকার ডিজাইনে ফিরে যায়।
একবার ঠিক করে দিলে আর কাউকে মনে করে কিছু বদলাতে হয় না। বোর্ড প্রতিদিন ঠিক সময়ে বদলে যায়।
একই স্ক্রিনে মেনু, অফার আর টিকার
মেনু দেখাবেন না অফার, এ নিয়ে ভাবতে হবে না। স্ক্রিনটাকে কয়েকটা অংশে ভাগ করুন: এক পাশে মেনু, অন্য পাশে একের পর এক ঘুরতে থাকা অফার, আর নিচ বরাবর এক লাইনের লেখা ("বারিস্তা নেওয়া হচ্ছে, কাউন্টারে জিজ্ঞেস করুন")। প্রতিটি অংশ নিজের তালিকা চালায়, নিজের গতিতে। কোনো কোণ ফাঁকা থাকলে ঘড়ি বা সেখানকার আবহাওয়াও বসিয়ে দিন।
ছোট ছোট যে জিনিসে মেনু বোর্ড সত্যিই কাজে দেয়
- বড় অক্ষর, কম কথা। লাইনের একেবারে পেছন থেকে পড়া না গেলে, লেখা খুব ছোট।
- পাঁচটা ছোট ছবির চেয়ে একটা ভালো ছবি অনেক বেশি কাজের। যেটা সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়, সেটাকে জায়গা দিন।
- একটু নড়াচড়া। স্থির ছবিতে ধীর একটা জুম চোখ টানে, অথচ বিরক্ত করে না।
- যা বদলায়, তার জন্য অংশগুলো ব্যবহার করুন। মেনুটা স্থির রাখুন, আর ঘোরানোর কাজটা অফারের অংশকে করতে দিন।
- নিজের টেবিল থেকেই দেখে নিন। পোর্টালে দেখা যায় প্রতিটি স্ক্রিন অনলাইন কি না আর তাতে কী চলছে, আর Android প্লেয়ার হলে ঠিক এই মুহূর্তে স্ক্রিনটার একটা স্ক্রিনশটও দেখাতে পারে।
ক্যাফের ইন্টারনেট চলে গেলে স্ক্রিন যা জমিয়ে রেখেছে তাই চালাতে থাকে, আর সংযোগ ফিরলে সব আপডেট করে নেয়। তাই দিনের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়ে Wi-Fi একটু গোলমাল করলেও দেয়ালটা ফাঁকা পড়ে থাকবে না।
চালু অবস্থায় একটা দেখে নিন
আমাদের লাইভ ডেমো ঠিক এটাই: আমাদের বানানো কাল্পনিক ডেমো ক্যাফে Levels Café-এর কাউন্টারের বোর্ড, মেনু, অফার আর নিচ বরাবর টিকারসহ, এই মুহূর্তে আপনার ব্রাউজারে চলছে। আর স্ক্রিনটাই যদি এখনও সেট না করে থাকেন, তাহলে শুরু করুন যেকোনো টিভিকে কীভাবে ডিজিটাল সাইনবোর্ড বানাবেন দিয়ে।